ভোরের বাংলা ডেক্স
সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীর একটি শাখা কাকুড়া নদী। এটি উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের খাইরগাঁও মাধবপুর গ্রাম ঘেষে ছাতক-সিলেট সড়কের লালপুল হয়ে মহাসিং নদীতে সংযোগ রয়েছে। বহমান এ নদী পথে বালু ও পাথরবাহী স্ট্রিল নৌকা মহাসিং নদীর পথ ধরে প্রত্যেহ যাতায়াত করে আসছে। বালু ও পাথরবাহী নৌকা ছাড়া কাকুড়া নদী হয়ে শান্তিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আক্তাপাড়া বাজারে বাঁশের চাইলও যায়। নদীটি দু’পারের বাসিন্দাদের উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি উঠে আসছিল। কিন্তু সাবেক সরকারের মদদপুষ্ট কিছু স্বার্থান্বেষী নেতাদের কারণে এলাকার মানুষের দাবি পূরণ হচ্ছে না। এটি লিজ গ্রহণের নামে চাঁদাবাজির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। নদীটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করে ব্যর্থ হয়েছেন এলাকার কয়েকটি গ্রামের মৎস্যজীবিসহ সাধারণ কৃষিজীবী মানুষ।
ছাতক সদর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের কাজীরহাটা, মুক্তিরগাঁও এবং তিররাই গ্রামবাসীর উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে কাকুড়া নদীর পারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কাকুড়া নদী অবৈধ ভাবে দখলদারীর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিরগাঁও গ্রামের সাবেক মেম্বার আবদুল গফুর, কাজীহাটা গ্রামের সেলিম আহমদ, দিলোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সিরাজ উদ্দিন, আবুল মিয়া, আবদুল আলিম, মৎস্যজীবী ত্রীয় রঞ্জন, হেলাল মিয়াসহ আরও অনেকেই। এসময় কাজীহাটা, মুক্তিরগাঁও ও তিররাই গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ কয়েক শত মৎস্যজীবি ও কৃষক পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে তারা বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের মদদপুষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা, কালারুকা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম ৩-৪ বছর ধরে কাকুড়া নদীর মাধবপুর-খারগাঁও থেকে কান্দিগাঁও পর্যন্তচলমান নদীকে বদ্ধ নদী বলে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতেই লিজের নামে চাঁদাবাজি করছে। মাছ ধরে বিক্রি করছে। এই নদীর সীমানায় মাছ ধরার অন্তত ২০টি ভেলজ্বাল থেকে নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগিরা লাখ লাখ টাকা চাঁদা নিচ্ছে। এছাড়া নদীতে চলাচলরত বাঁশের চাইল, মালবাহী নৌকা থেকে হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে চাঁদাবাজ নূরুল ইসলাম ও তার সহযোগিরা। পাশাপাশি কাকুড়া নদীর তীরবর্তী গ্রাম মাধবপুর, খারগাঁও, হাজীহাটা, নোয়াগাঁও, মুক্তিরগাঁও, তিররাই, কান্দিরগাঁও, বাঁশখলা গ্রামের কৃষকদের গবাদিপশু চড়াতে এবং মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে বাঁধা দিয়ে আসছে চাঁদাবাজ নূরুল ইসলাম। তারা বলেন, গদারমহল থেকে কাকুড়া নদীর শেষ সীমান্ত মহাসিং নদী পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকলেও মাধবপুর থেকে কান্দিগাঁও পর্যন্ত কেন উন্মুক্ত থাকবেনা? তারা দ্রুত নদীর এই অংশ উন্মুক্ত করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
Leave a Reply