ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি হাওরে প্রায় ২০ একর জমিতে এবার বোরো চাষাবাদ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোন পতিত জায়গাও যেন অনাবাদি না থাকে সে বিষয়ে সরকার ঘোষণা দিলেও ফসলি জমিতে এখানে চলছে উল্টো। বিরোধিতার কারণে একটি পক্ষ এ অস্থার সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুতের সাহায্যে সুরমা নদী থেকে তিন সপ্তাহ ধরে সেচ মেশিন বসিয়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনছেন না। ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সেচ মেশিন মালিকসহ সাধারণ কৃষক।
জানা যায়, উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের চরভাড়া গ্রামের নোয়াগাঁও বন্দে রয়েছে প্রায় ৩০ একর জমি। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এখানে বোরো সেন্টার ক্ষেতের জন্য সুরমা নদী থেকে সেচ মেশিন বসিয়ে পানি সরবরাহ করে আসছেন ছাতক পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাঁশখলা গ্রামের মৃত ইছকন্দর আলীর ছেলে মতছির আলী। চরভাড়া গ্রামের মৃত তেরাব আলীর ছেলে মঈন উদ্দিনের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে প্রতি বছর তিনি এখানে সেচ মেশিনের মাধ্যমে সুরমা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে কৃষকদের জমিতে দিয়ে আসছেন। বিনিময়ে তিনি প্রতি কেদারে নিচ্ছেন দুইমন ধান ও নগদ ১শ’ টাকা। এতে কৃষকরা উপকৃত হয়ে আসছেন। কিন্তু এ বছর ওই সেচ মেশিনের পাশে আরেকটি সেচ মেশিন বসান চরভাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে হেলাল আহমদ। তিনি ডিজেলের সাহায্যে সেচ মেশিন দিয়ে সুরমা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে কৃষকদের জমিতে দিতে শুরু করেন।
এ নিয়ে সম্প্রতি হেলাল আহমদ ও মঈন উদ্দিনসহ তার আত্মীয় মতছির আলীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
গত ১৫ জানুয়ারি হেলাল আহমদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মতছির আলী। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২৬ বছর ধরে এখানের বোরো বিভিন্ন জমির মালিকরা বোরো সেন্টার করে ফসল ফলিয়ে আসছেন। এ বছর চাষাবাদের জন্য বিদ্যুত সংযোগ দিতে আসলে সংযোগ দিতে বাঁধা দেন হেলাল আহমদ। গত ২৩ জানুয়ারি মতছির আলীকে মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় হেলাল আহমদকে প্রধান আসামি করে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত মতছির আলী। এদিকে, কৃষকদের জমি চাষাবাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরের জামান চৌধূরী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মতছির ও হেলালকে কৃষকদের জমিগুলো দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া হয়। যাতে তারা কৃষকদের জমিতে পানি দেন এবং কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করে সফল উৎপাদন করতে পারেন। অভিযোগ উঠেছে, মতছির আলী প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জমিতে পানি দিয়ে আসলেও হেলাল আহমদের অংশের জমিতে হালচাষ বা ধানের চারা রোপন করা হচ্ছেনা। অথচ হেলালের অংশে মতছিরের আত্মীয় মঈন উদ্দিন এবং তার সহোদরদের সকল জমিতে ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। আক্রোসে মতছির আলী কর্তৃক সেচ মেশিন দিয়ে পানি দেওয়া জমিগুলোতে চাষাবাদ না করতে পক্ষের কৃষকদের বাধ্য করছেন হেলাল। মঈন উদ্দিনের পুত্র রফিক মিয়া বলেন, হেলাল মিয়ার অংশে তাদের প্রায় ৩ একর জমি রয়েছে। তারা ওই জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছেন। কিন্তু মতছিরের অংশে হেলালরা চাষাবাদ করছেন না। ফলে জমিগুলো পতিত রয়ে যাচ্ছে। গ্রামের জামাল উদ্দিন, এখলাছুর রহমান, মোজ্জামিলসহ একাধিক কৃষকরা বলেন, মতছিরের অংশে ২০-২২ একর জমি রয়েছে। মঈন উদ্দিনের আত্মীয় মতছির আলী তার অংশের জমিতে পানি দিলেও হেলাল আহমদসহ তার পক্ষের কৃষকরা চাষাবাদ করবে না বলে তারা শুনেছেন। তারা বলেন, তিন সপ্তাহ ধরে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষক মোহাম্মদ আলী, হুসাইন আহমদ, ফারুক আহমদ, আনিছ আলী, সাঈদ আহমদরা দুই একর জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছেন। এছাড়া বিশাল অংশের জমিগুলো পতিত থাকার আশঙ্কা করছেন তারা। হেলাল আহমদ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় উল্লেখ করে বলেন, মতছিরের অংশে ওয়াছির আলী লন্ডনীর অনেক জায়গা রয়েছে। চাষের সময় অতিবাহিত হওয়ায় বর্গা চাষিরা চাষাবাদ করছেন না। তিনি বলেন, সময় সুযোগ পেলে এবং ধানের ছাড়া অবশিষ্ট থাকলে মতছিরের অংশের অন্যান্য জমিগুলো চাষাবাদ করা হবে।
এ ব্যাপারে মতছির আলী জানান, বিদ্যুতের সাহায্যে প্রকল্পে সেচ মেশিন দিয়ে সুরমা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে আসছেন তিনি। এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন কৃষক ধানের চারা রোপন করেছেন। এখানে অন্যান্য কৃষক ছাড়াও মসজিদ-মাদরাসা ও বেশি জমি রয়েছে মরহুম ওয়াছির আলী লন্ডনীর। এ জমিগুলো হেলাল আহমদের ইন্দনে চাষাবাদ করা হচ্ছেনা। এতে তিনি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। মঈন উদ্দিন বলেন, পাওয়ার পাম্প দ্বারা পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ধান ফলানোর ক্ষেতে বাঁধা সৃষ্টি করে আসছেন হেলাল আহমদ গংরা। এ বিষয়ে তিনি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিরোধের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরের জামান চৌধুরীর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
Leave a Reply